পোস্টগুলি

2019 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে
কতবার রেখেছ হৃদয় শানিত কুঠারে রেখেছ চোখ আত্মঘাতী আঁধারে? হে জন্মান্ধ কুঠার - স্নানে'র উল্লাস করেছে ঋণী তোমায় কৃতজ্ঞতাও রেখেছে ছায়া কামারশালে... ধ্যানস্থ বৃক্ষের বাকল খুলে দেখো পুড়বার আগে ফেনিয়ে উঠছে পোড়াবার প্রার্থনা বিশ্বাস তবুও জন্মায় মৃত্যুর আগে... কুঠারের টুঁটি ছেড়ে একবার হাত ধরো, হাত বাড়ানো ছায়ার হেঁটে এসো অতীত সরণী শৈশব সেখানে এখনো যে মালী...
মার্জনা বিগত যৌবনা যে পুকুর পাড় চির কামনার ক্ষয় মাখে রোজ আততায়ী হয়ে ওঠা মাটি শুষে নেয় যেখানে স্নিগ্ধ বৃক্ষ কোষ এসো মার্জনা জিরিয়ে নাও প্রস্থান পূর্বে... হে আগুন, মৃত, খুঁড়ে দেখো মৃত শমীবৃক্ষের বাকলে সঞ্চিত বারুদ সম্ভার পড়ে দেখো শুকনো ঘাসের শেকড় পদাঘাত শোভিত যত নাগরিক ক্ষোভ। এসো মার্জনা জিরিয়ে নাও প্রস্থান পূর্বে... রাত অশ্লীল করে তোলে যে ডাহুকী সে কি প্রেমিকা না কি মৃত্যুপুরীর নর্তকী? এসো জিরিয়ে নাও ত্রুটির পাশে প্রকৃত মার্জনা।

হেমন্তের কৃষক

নীরব ছায়ারা ফুরিয়ে এলে দেবদারু গুছিয়ে রাখে শোক... ইচ্ছেরা তীক্ষ্ণ ক্ষিদায় জেহাদি হলে খামার জুড়ে অসুখের উচ্ছিষ্টে আয়োজন কৌশলী চড়ুইভাতির। কাজুবন ঘেমে ওঠে স্তব্ধ দুপুরে শ্রান্তি চুঁইয়ে পড়ে রোদ্দুর বেয়ে ফোঁটা কয়েক শিউরে ওঠা শিয়রে শিকার শেখে হেমন্তের কৃষক...

তোমার প্রতি

হে অনিমিক পথ - থেকোনা আলুলায়িত লুটিয়ে ছায়াহীন বৃক্ষ সামিল হও বৈরাগ্যের একতারাতে । স্বজন হত্যার ক্লান্তিতে - বুক ধু ধু কুরুক্ষেত্র প্রতারিত কর্ণের ধৃষ্টতা ক্ষমাহীন নিভৃতে তুমিও কন্ঠী সেরে রাখো। জীবনের গান গাইতে বল লিখতে বল প্রেমের কথা অথচ, আজও তুমি - অত্যাচার প্রত্যাশী । দাসত্বের নেশায় রমণী হয়ে বাঁচো মায়ের মত প্রেমিকা হতে পারোনি...

সম্পর্কিত

প্রাচীন নেশা চোখে - পোড়াই শস্য, মধ্যবিত্ত নদী আগুন বিলাসে সাজাই চিতা। অধিকারে অভিমান - ফেলেছে প্ররোচনার তাঁবু। মাধুকরী শেষে যখনই ছুঁয়েছি - ভিক্ষান্ন, পেটের চিৎকার, তন্ত্রী বেয়ে নেমেছে অভিশাপ সম্পর্ক নিয়েছে ঘাতক ভূমিকা...

বলি বিষয়ক

সাজানো হলে বলি যূপকাষ্ঠে প্রণতি রাখে কসাই খড়্গ ওষ্ঠে... মৃত্যু গন্ধে মাতাল মণ্ডপ ঢাকের বোলে খুনি উল্লাস হত্যা গন্ধ ঢাকে ধূপের শ্বাস... স্তোত্র জুড়ে বসাও স্তব্ধতা উপোসী গাছের ডালে ডালে ঘা বেড়েছে বরং মানত ঢিলে... রেখো না প্রেম হত্যার সংস্কারে শকুন শানায় অপেক্ষা ভাগাড়ে...
আলো কমে আসে উঠোন ঘিরে জমে স্তব্ধতা পঙ্গু শিশুর হেঁচকি জুড়ে প্রশ্ন ওঠে - কতটা এগোল বিজ্ঞান আজ... বিস্ফোরণে পাখী হয় চোখ নিভে আসে আলো অন্ধের হোঁচট থেকে প্রশ্ন ঝরে - কতটা এগোল বিজ্ঞান আজ... ফুরিয়ে আসে দম পারমানবিক ছাই ওড়ে বাতাসে কাজল পরত প্রশ্ন করে - কতটা এগোল বিজ্ঞান আজ... পাক খায় বোমারু বাজ ডানা ছিঁড়ে পাখি ঝড়ে গর্জে ওঠে অস্ত্র বিজ্ঞান টুপটাপ মানুষ মরে চিতা জুড়ে প্রশ্ন জ্বলে - কতটা এগোল বিজ্ঞান আজ...
শুনতে পাচ্ছো কোলাহল? ঝিঁঝি বলছি - উষ্ণায়ণের বাগান থেকে যার গান স্বরলিপি বহির্ভূত যার কান্নায় কান রাখোনি তবুও,  শোনাতে চেয়েছি ক্রুর প্রগতির ইতিহাস অপ্রাপ্য'কে হাসিল করার কুটিল হিসেব। যুদ্ধ ধ্বস্ত এই পালকে রাখুন বিস্মরণ জাগ্রত চোখে রাখুন অন্ধত্ব ছাইয়ের মতো উড়িয়ে দেব প্রতারিত স্বজনের কবরে কবরে...

আলো

ইদানিং নদীর কাছে যাই না নির্বিঘ্নে দহন শিখি... বরং ভাবতে পারো পথ নয় বেপথু আত্মীয়তা আমার বিষাদ বাউন্ডুলে... পাহাড়ি ক্লান্তি লুকিয়ে যত্নে - ভূমিকম্পের অপেক্ষায় থাকি... "আমি আছি" বলেছিলে - পথ সামলে রাখে ভঙ্গুর বুক। বিষাদে ভাটিয়ালি ঘনালে - মরা খাল নদী হয় , মরশুমী বিকেলে তাই খোঁজ নাও - কতটা বিকারে ঋতু বদলে যায়... ভালো থাকার সুত্রানুসারে আলো তুমিও পথ ভুলে যাও...
ঝমঝমে দুপুর।জানালা জুড়ে স্যাঁতসেঁতে বৃক্ষ।একলা কাক আঁচড়ে নিচ্ছে শোকাহত পালক। হিজলের ভেজা ডানায় ছাতারের বাসি ঝগড়ার ঘ্রাণ। দুঃখ দুপুর গড়িয়ে পড়ছে। গড়িয়ে পড়ছে আলো। আসন্ন অন্ধকারে কার থাকবে অধিকার? গোপন গহ্বর খুলে দিচ্ছে বুক। বমির মত ঝলকে ঝলকে বেরিয়ে আসছে শ্বাপদ,শৃগাল,নেকড়ে ও বিকার।জ্বরা ধ্বস্ত প্রতিরোধের বুকে একে দাঁত ও নখের আদর রাখছে। আমরা ছড়িয়ে পড়ছি রণক্ষেত্রে রক্তের মত... আমরা ফুরিয়ে যাচ্ছি গোধূলির মত... আমরা গড়িয়ে পড়ছি ভূমি ক্ষয়ের মত...

চিতার সন্তাপ

দহন কেবল নয় আগুন ছাই'ও মাখে উড়ান শেষে বাতাসের দীর্ঘশ্বাস থাকে... চঞ্চল যত পাতা, নির্মাণে হৃদয় রেখে কোন সন্ন্যাসী শোক জ্বালো বৈশাখে... গান ঠোঁটে পাখীরা ফেরারী কোন পথে জিঘাংসা হাতে শিকারি মালা গাঁথে... হত্যার শেষে হিসেব হয় ভ্রূণের শাপ দাহ শেষে পড়ে থাকে চিতার সন্তাপ... শব্দ কোলাজ - ইন্দ্রজিৎ
হননের পাদদেশে আশ্চর্য পিপাসা নৈবিদ্য সাজানো তারই মুগ্ধ স্নানে... রেখেছ এ কি দুঃসহ আকুতি উপোষী বন্দরে এসো ছুঁয়ে দেখি সেসব ফকিরি উল্লাস... নাহয় থাক কিছু ঋণ ছায়ার কাছে পড়ে থাক উন্মাদ দহনের কলরব গোছাও শুধু বাকলে লুকোনো নীরবতা... প্রার্থনা জড়ানো হাত ধুয়ে নাও আঙুলে আঙুলে জন্মাক অরণ্য... শব্দ কোলাজ - ইন্দ্রজিৎ 

আত্মীয়

অবিশ্বাসী সরীসৃপের জিভ সুড়সুড়ি দ্যায় পাঁজরে আত্মীয় ছাড়া কেউ নেই এই সন্দেহজনক শহরে... শব্দ কোলাজ - ইন্দ্রজিৎ 

মার্জার সভা

ফসলহীন মাঠে আজ রাতে বসবে মৃত বেড়ালদের আপাতকালীন সভা। ক্ষয়ে যাওয়া মাড়ি,ন্যাংটো পাঁজরা,আধপচা ভুঁড়ি এবং শানানো থাবা নিয়ে হাজির থাকবে মার্জার প্রধান। সভায় গ্লাসে গ্লাসে পরিবেশন করা হবে কীটনাশক কারণ কীটনাশক এখন গোপনীয়তা রাখছে না হত্যায়।প্লেটে প্লেটে সাজানো থাকবে ধিক্কার ও প্রতিশোধ যা একদিন মাছ ও দুধ চুরির অপরাধে ওদের দেওয়া হয়েছিল। আজ রাতে মার্জার প্রধান ঘোষণা করবেন একটি সুরক্ষিত রাষ্ট্রের কথা,যেখানে থাকছে না কোন ভদ্র ও গোপন রান্নাঘর। থাকছে না কোন আততায়ী গৃহস্থ। থাকছে না সন্ত্রাসী নাশকতা সমৃদ্ধ ওষুধ দোকান... শব্দ কোলাজ - ইন্দ্রজিৎ 

পানশালায়

সন্ধ্যা নামলে ঘড়ি কাঁপিয়ে বৃদ্ধা পানশালা বসে যুবতী হয়ে। জলোৎসব উল্লাসে ঝরে পড়ে মুগ্ধ বাজের অশ্লীল তীক্ষ্ণতা উজ্জ্বল আয়না নিভিয়ে রাখে - বেহায়া চোখের তীব্রতা... স্তব্ধ গোপন কথা প্রপাত হয় ধারাবাহিক পানের মরমিয়া সুরে। ডুবতে বসা পেটের গোঙানি থামলে গড়ের মাঠ হাতে গড়াতে গড়াতে দরজ হাতড়ায় - অনির্বাণ জানালার সামনে।
শান্ত হয়ে জ্বলে গ্রামীণ দুপুর ঘুঘুর আদরে গাভীর পায়ে পায়ে ওড়ে ঘাস ফড়িং খুঁটে খায় সন্ন্যাসী বক... মাছি ভনভনে স্তব্ধতায় ঠোঁট ঘষে ব্যথা খোঁড়ে একাকী বুনোহাঁস শ্যাওড়া পাতার মত মেঘ ঘন হয়ে বসে দৃশ্য ঘেঁষে... বৃদ্ধ নিমের পাদদেশে রেখেছি যাদের মাটির চাদরে ঢেকে শিশু ঘাস নকশা বোনে ওখানে বিক্ষত চোখে ব্যথা নদী হয়ে ওঠে...

ছোঁয়া হয়নি যা

এযাবৎ ছোঁয়া হয়নি নিভে আসা গোধূলির হাসি ঝলসা লাগা ধানের শরীর হিজল তলার ছড়ানো ফকিরি উল্লাস... এযাবৎ ছোঁয়া হয়নি শিরিষ পাতার হারমোনি পুকুর জোড়া কলমির স্বরলিপি শিশির ভেজা পঙ্গু শালিকের গান... স্পর্শ রেখেছি যেখানে অরণ্য সন্ধানে আঁচল জুড়ে ছাই হয়েছে উদ্ভিদ জন্ম স্পর্শের পিপাসা নিবিড়ে এসেছে অথচ - আয়ুরেখা জুড়ে সাজিয়ে রাখছে পূজারি কনকাঞ্জলির প্রদীপ আর শঙ্খধ্বনি...
সমস্ত অর্জন বিলিয়ে শেষে এলিয়ে পড়ে ক্লান্ত ছায়া আদর বোলায় দীঘি জল ব্যথা ফোটে শালুক হয়ে... মরমিয়া ডাহুকীর গান শেষে হাঁটু ভেঙে উঠে আসে যন্ত্রণা ভিক্ষুক আঁকড়ে ধরে খাঁ খাঁ পড়ে থাকা ভিক্ষার ঝোলা... সন্ধ্যা হাতে ছাতিম গন্ধ জ্বরা ধ্বস্ত কুটিরে কুটিরে বিয়োগবিধুর বৈষ্ণবী আখড়ায় অসুখের খবর নিয়ে ফেরে...
এখনও বেঁচে আছি যারা নিরুপদ্রব দিনের মত ছায়া বুকে বিস্মৃত হাভেলির বারান্দায় তাদেরই কেউ কেউ জানে খাড়াই বাঁচিয়ে রেখেছে কারা কোন প্রয়োজনে ! আমাদের পরিজন, প্রতিবেশী যারা খুন হয়েছিল গতকাল রাতে রুখে দাঁড়ানোর ছাই লেগে আছে শ্মশানযাত্রি আধপোড়া মৃত চোয়ালে...
কতবার রেখেছ হৃদয় শানিত কুঠারে রেখেছ চোখ আত্মঘাতী আঁধারে? হে জন্মান্ধ কুঠার - স্নানে'র উল্লাস করেছে ঋণী তোমায় কৃতজ্ঞতাও রেখেছে ছায়া কামারশালে... ধ্যানস্থ বৃক্ষের বাকল খুলে দেখো পুড়বার আগে ফেনিয়ে উঠছে পোড়াবার প্রার্থনা বিশ্বাস তবুও জন্মায় মৃত্যুর আগে... কুঠারের টুঁটি ছেড়ে একবার হাত ধরো, হাত বাড়ানো ছায়ার হেঁটে এসো অতীত সরণী শৈশব সেখানে এখনো যে মালী...
মার্জনা বিগত যৌবনা যে পুকুর পাড় চির কামনার ক্ষয় মাখে রোজ আততায়ী হয়ে ওঠা মাটি শুষে নেয় যেখানে স্নিগ্ধ বৃক্ষ কোষ এসো মার্জনা জিরিয়ে নাও প্রস্থান পূর্বে... হে আগুন, মৃত, খুঁড়ে দেখো মৃত শমীবৃক্ষের বাকলে সঞ্চিত বারুদ সম্ভার পড়ে দেখো শুকনো ঘাসের শেকড় পদাঘাত শোভিত যত নাগরিক ক্ষোভ। এসো মার্জনা জিরিয়ে নাও প্রস্থান পূর্বে... রাত অশ্লীল করে তোলে যে ডাহুকী সে কি প্রেমিকা না কি মৃত্যুপুরীর নর্তকী? এসো জিরিয়ে নাও ত্রুটির পাশে প্রকৃত মার্জনা।
চন্দ্রডুবির রাতে ছেলেটি ক্রিসানথামাম হাতে জ্বেলেছিলো বুক প্রেমে কার্তিক শিশিরে রেখেছিলো স্নান... তারপর - বুকে নেচেছিল তার শঙ্খচূড় শরৎরঙা আকাশ নেমেছিল শরীর জুড়ে,বিষের আদর বাঁধ ভেঙে ছুঁয়েছিল চোখ...
সন্ধ্যারতি সেরে কীর্তনে হেঁটে যাচ্ছে অন্তিম পঞ্চভূতে বিলিয়ে যাচ্ছে নম্র সংস্কারের দর্শণ এসো প্রলাপ, এসো ভ্রম, এসো ভ্রান্তি জিরিয়ে নাও খানিক সন্ন্যাসী পালকের ছায়ায় প্রলয়ের খঞ্জনীতে বেজে ওঠো অন্তিম...
ছবি
Add caption দিকশূন্যপুরের দিকে চলেছে যে আঁধার সন্ধা...  
অপলক নিমন্ত্রণ প্রস্তাব রেখো না কড়িকাঠ গ্লানির গহ্বর বিস্তৃত হয় নি যদিও, লজ্জাবতী প্রস্তুত ঢেকে ফেলতে নির্লজ্জ সেলাই এর দাগ...
            যদি হাঁটো রাষ্ট্রের পাশাপাশি                জেনো ভালোবাসাও সন্ত্রাসী... কেননা এই পৃথিবী সাম্রাজ্যবাদী হায়নার থাবায় বন্দী।ভালোবাসা এখানে মূল্যহীন।ভালোবাসার মূল্য হিসেবে চোকাতে হয় কখনো প্রাণ দিয়ে,কখনো বা বেশ্যালয়ে বিক্রি হয়ে,কখনো বা প্রতারিত হয়ে,কখনো বা...
কিছু সন্ধ্যা ধার দিও ক্রিসান্থিমাম একখানি দেরাজ কিনব বিশ্বাসের হাড়গোড় গুছিয়ে রাখতে আর তুমি আফ্রিকান টিউলিপ ধার দিও কয়েকটা গোধূলী অশ্বথ পাতার হাততালি কিনব কেননা - বিষণ্ণতার সার্কাসে একমাত্র বন্ধু অশ্বত্থই কান্নার বদলে হাত বাজাতে জানে...
শান্ত হয়ে জ্বলে গ্রামীণ দুপুর ঘুঘুর আদরে গাভীর পায়ে পায়ে ওড়ে ঘাস ফড়িং খুঁটে খায় সন্ন্যাসী বক... মাছি ভনভনে স্তব্ধতায় ঠোঁট ঘষে ব্যথা খোঁড়ে একাকী বুনোহাঁস শ্যাওড়া পাতার মত মেঘ ঘন হয়ে বসে দৃশ্য ঘেঁষে... বৃদ্ধ নিমের পাদদেশে রেখেছি যাদের মাটির চাদরে ঢেকে শিশু ঘাস নকশা বোনে ওখানে বিক্ষত চোখে ব্যথা নদী হয়ে ওঠে...
ভোরের আলো ফুল হয়ে ফুটতে ফুটতে ট্রেণ পেরিয়ে চলল ব্রহ্মপুর... মাঠের সীমান্তে সার বেঁধে দাঁড়িয়ে নারকেল, তাল প্রহরীরা কেউবা কোমর ভেঙে আবার কেউবা মুণ্ডহীন, কারণ খোঁজারু ভাবনায় হাওয়া লাগল কিছুটা এগিয়ে বিঘা পাঁচেক জায়গায়  য্যানো বুনো দাঁতালের দল তাদের উন্মত্ততা ছড়িয়ে দিয়েছে।চকিত চপলার মতো স্মৃতিপাত্র থেকে ঝিলিক দিলো কদিন আগেই এদিকেই আছড়ে পড়া তিতলি নামক ক্রুদ্ধ বায়ুচণ্ডীর দীর্ঘশ্বাস গাঁথা।মাঠের পর মাঠ বৃক্ষের ছেঁড়া ডানা পড়ে আছে,দীর্ঘকাল যাবৎ মানুষকে ভালোবাসতে ভালোবাসতে ক্লান্ত মহীরূহ য্যানো এলিয়ে পড়েছে মাটিতে।খেজুর গাছের পালকে গাঁথা হয়ে আছে পক্ষী যিশুদের দেহ।মত্ত দেবীর দীর্ঘশ্বাস শুধুই বৃক্ষের হত্যালীলা উদযাপিত করে গ্যাছে।ছুঁয়েও দেখেনি শস্যের অভিশপ্ত শরীর...
হিজলের বুকে হামাগুড়ি দেওয়া দামাল ছায়া।দেবদারু পাতা বেয়ে নামে ক্লান্ত গোধূলি।শিরিষ ফুলের মত উজ্জ্বল অন্ধকার।এসবই আয়োজন আড়াল মেখে থাকার। চঞ্চল ডুমুরের পাতায় মেধাবী জোনাকির নিভে যাওয়া।দলিত ঘাসের ক্ষতে শিশিরের প্রলেপ।কুয়াশায় ভিজে যাওয়া প্যাঁচাদের শিকারের কৌশল। দেখতে দেখতে ফুরিয়ে আসছে রাত।গুপ্ত গর্ত থেকে বেরিয়ে আসছে সাংসারিক আলোচনা ও সম্ভাবনাময় মৃত্যু।
সে রাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম... তন্বী করাতে'র দক্ষ দাঁত চিরে দিচ্ছিল গাছের শরীর,নিশাচর প্যাঁচার ডাকে হতবাক সদ্য জাগা পাখী উড়ে যেতে চেয়ে দেখেছিল তাদের পালক ছিঁড়ে নেওয়া হয়েছে।দ্বিখণ্ডিত কাঠবেড়ালি এবং ঝিঁঝিঁ পোকা ছাড়া কেউ প্রতিবাদ করে নি সে রাতে। ঘুমিয়ে পড়েছিলাম সে দুপুরে - হাওয়ার পাল ছেদ করে যখন বুলেট ছুটে যাচ্ছে শামুকখোল ও গর্ভবতী হরিয়ালের বুক লক্ষ্য করে,তুষারের মত ঝরে পড়ছে মাঠ জুড়ে সাদা পালক ধিক্কারে ঘৃণার উল্লাসে।দুরন্ত হাওয়া ছাড়া কেউ ব্যর্থ প্রতিরোধ গড়ে তোলেনি সে বিষণ্ণ দুপুরে। আমি সে রাতে'ও ঘুমিয়ে পড়েছিলাম... যে রাতে মা বোন এবং প্রেমিকাকে ক্রমানুসারে উন্মত্ত গু-খেকো কৃমিরা ধর্ষণ করেছিল,প্রত্যেকের গর্ভে অন্ধ তিমির মত দাপিয়ে বেড়িয়েছিল নপুংসকের নষ্ট বীর্যের উল্লাস এবং তাদের টুঁটি পর্যন্ত কুরে খেয়েছিল কৃমি'রা।সে রাতেও চতুর ঘুম খুঁজে নিয়েছিল আমার দুর্বল স্নায়ুতন্ত্র ও খোকলা করোটি।